টিনএজারদের ত্বকের যত্ন

স্কিনকেয়ার বা ত্বকের যত্ন নেওয়া শুরু করার ভালো সময় হচ্ছে টিনএজ। কারণ এ সময় থেকে একটি ভালো হাইজিনের অভ্যাস এবং রুটিন তৈরি হলে, তা ত্বকের সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে দীর্ঘমেয়াদী এবং উপকারী প্রভাব ফেলে।

যখন স্কিনকেয়ারের কথা বলা হয়, তখন অনেকে ধরেই নেয় যে মেয়েদের কথা বলা হচ্ছে। অথচ, ত্বকের যত্ন নেওয়া ছেলে-মেয়ে সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আজকের বিষয় কিশোর-কিশোরীর স্কিনকেয়ার।

একটি আদর্শ টিনএজ স্কিনকেয়ার রুটিনকে অবশ্যই হতে হবে সহজ, ছোট ও  নিরাপদ। অনেক বেশি স্টেপ থাকলে এই রুটিন নিয়মিত মেনে চলা কষ্টকর হয়ে যাবে। তাছাড়া কিশোর-কিশোরীদের ত্বক এসব স্কিনকেয়ারে অনভ্যস্ত হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টিরও সম্ভাবনা তৈরি হয়। একারণেই টিনএজ স্কিনকেয়ারে থাকবে একদম বেসিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্টেপগুলো। সেগুলো হলো:

ক্লেনজার ও ফেইসওয়াশ

আমাদের ত্বক একটি প্রোটেক্টিভ ব্যারিয়ার। অর্থাৎ, বিভিন্ন বাহ্যিক ময়লা যেমন ধুলা-বালি, জীবাণু থেকে ত্বক ভেতরের কোষগুলোকে রক্ষা করে। তবে স্কিনে থাকা ঘামগ্রন্থিতে এসব ময়লা আটকে ব্রণ, চুলকানি, র‍্যাশ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। যদি না নিয়মিত আমাদের ত্বককে পরিষ্কার করা হয়। 

এজন্য, বডিওয়াশ বা বেবিসোপ দিয়ে নিয়মিত ভালো করে গোসল করতে হবে। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান মুখে না দেওয়াই ভালো। প্রতিদিন গোসলের সময় এবং ঘুমের আগে দুইবার একটা মাইল্ড ও লো-পিএইচ (৫.৫ এর বেশি না) ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া আবশ্যক। 

ময়েশ্চারাইজার

গোসল বা মুখ ধোয়া, পরিবেশের প্রভাব এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে আমাদের ত্বক তার আর্দ্রতা হারায়। এতে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। যার ফলে টানটান ভাব, চামড়া ওঠা ও দ্রুত বলিরেখা পড়ার মতো বেশ কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়। 

মুখ ধোয়ার পর নিয়মিত একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার দেওয়া তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল টাইপ এবং রুক্ষ ত্বকের জন্য ক্রিম টাইপ ময়েশ্চারাইজার ভালো। গ্লিসারিন, পেট্রোলিয়াম, হায়ালুরোনিক এসিড, সেরামাইডস ইত্যাদি উপাদানযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। 

সানস্ক্রিন বা সানক্রিম

ত্বককে সূর্য্যের অতিবেগুনী রশ্মি বা ইউভি-রে থেকে রক্ষা করতে ন্যুনতম এসপিএফ-৩৫ সানস্ক্রিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

ইউভি রে যদিও শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করতে আবশ্যক। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে অনিরাপদ ভাবে রোদে থাকলে, ফ্রির‍্যাডিকেল ড্যামেজ হয় যা ত্বকে দাগ সৃষ্টি করে, ব্রণ উঠতে প্রভাবিত করে, এমনকি সানবার্ন হয় বা উত্তাপে ত্বক পুড়ে যায়। সানবার্ন খুবই ব্যাথাদায়ক এবং ক্ষতিকর কারণ এখান থেকে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে!

তাই রোদে বের হওয়ার আগে একটি ভালো এসপিএফ-৩৫+ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা খুবই দরকার যা প্রতি দুই ঘন্টা পরপর রিঅ্যাপ্লাই করতে হবে। এছাড়াও, ছাতা, সানগ্লাস ও ক্যাপ ব্যবহার করা উচিত। বেলা ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সরাসরি সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা উচিত৷ 

এই বয়সে হরমোনাল ক্রিয়াতে অনেকসময় মুখে ব্রণ দেখা যায়। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, তবে একজন চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। 

অনেক টিনএজার তাদের স্কিন এবং কালার নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগে। সোশ্যালমিডিয়াতে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপদেশ শুনে হার্শ ক্যামিকালস ব্যবহার করে গায়ের রঙ ফর্সা করতে, যা খুবই ক্ষতিকর। 

তাই কোনো স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার শুরু করতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দেখে নিতে হবে এটা টিনএজ ত্বকের উপযোগী কিনা। বা এতে মার্কারি বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কিনা।

– নাদিয়া নুসরাত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *