পরীক্ষার হলে টাইম-ম্যানেজমেন্টঃ নির্ধারিত সময়ের মাঝে কীভাবে লিখে শেষ করবে?

“সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না”, কথাটি আমরা সবাই-ই শুনেছি। কিন্তু পরীক্ষার হলে যেন একথা আরো বেশি সত্য হয়ে যায়!

কারণ, পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে সময়ের মধ্যে সবকিছু শেষ করতে না পারা। তোমার যতো ভালোই প্রস্তুতি থাকুক না কেন, খাতায় সব উত্তর না লিখতে পারলে কাঙ্খিত ফলাফলটা আসবে না। 

অথচ অ্যালেন ওভারসিস ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৮৮% শিক্ষার্থী সময় পরিচালনা করতে সমস্যার সম্মুখীন হয়!

পরীক্ষার হলে প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানো তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর একারণেই পরীক্ষায় কীভাবে সময়ের যথাযথ ব্যবহার করা যায় তার পাঁচটি টিপস্ নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব৷  

শুরু হবে বাসা থেকে

পরীক্ষার আর সব প্রস্তুতির মতো টাইম ম্যানেজমেন্টও শুরু হবে বাসা থেকে। পরীক্ষার পড়াশোনার পাশাপাশি, সময় ধরে মক টেস্ট দেওয়া, আগের বছরের প্রশ্নগুলো থেকে ধারণা নেওয়া ও প্রতিটি সেকশনের উত্তর করার জন্য সময় নির্ধারণ করা হলে টাইম ম্যানেজের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। 

বিশেষ করে মকটেস্ট দেওয়াটা টাইমম্যানেজমেন্ট শেখায় খুবই ইফেক্টিভ। পার্ডু ইউনিভার্সিটির এক রিসার্চে দেখা গেছে পরীক্ষার পূর্বে মকটেস্ট দেওয়া শিক্ষার্থীদের সময়ের ভেতর পরীক্ষা শেষ করতে পারার হার, যারা মকটেস্ট না দিয়ে কেবল পড়ে পরীক্ষা দিতে গেছে তাদের থেকে বেশি। 

প্রশ্নপত্র পড়া

অনেকেই সময় বাঁচাতে প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথে উত্তর লেখা শুরু করে। পুরো প্রশ্ন ভালোমতো পড়তে সময় লাগলেও টাইম ম্যানেজ করে পরীক্ষা দিতে এই ধাপটা জরুরি। প্রশ্নপত্র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার পর তোমার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যাবে যে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর তুমি দিবে। 

সহজ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শুরু করাঃ সবসময় চেষ্টা করবে যে প্রশ্নের উত্তর তুমি সবচেয়ে ভালো পার, সেটা দিয়ে শুরু করতে। এতে তোমার কনফিডেন্স বেড়ে যাবে। ভালো উত্তর দিয়ে শুরু করলে পরীক্ষক যখন খাতা দেখবেন তখন তার কাছেও একটা পজেটিভ ইমেজ তৈরি হবে। 

একটা প্রশ্ন নিয়ে পড়ে না থাকা

অনেক সময়ে অনেক জানা উত্তরও পরীক্ষার সময় মনে আসে না। তবে সেই প্রশ্ন নিয়ে বসে থেকে সময় নষ্ট করা যাবে না। বরং, কোনো উত্তর না পারলে সেটা বাদ দিয়ে পরের প্রশ্নে চলে যেতে হবে। সব উত্তর শেষ করে এবং রিভিশন দেওয়ার পর তারপর যেগুলোয় সমস্যা ছিল সেগুলো নিয়ে বসবে। 

নিজের উত্তরে ভরসা রাখা

অনেকেই পরীক্ষার সময় অন্যের খাতার উত্তরের সাথে মেলানোর চেষ্টা করে। এটা উচিত নয়। অনৈতিক হওয়ার পাশাপাশি, বিভ্রান্তি সৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকে। পরীক্ষার সময় নার্ভাস থাকা স্বাভাবিক। অনেকসময় দেখা যেতে পারে তোমার উত্তরের সাথে তোমার বন্ধুর উত্তর মিলছে না। 

তখন আরো বেশি নার্ভাসনেস চলে আসে এবং অনেক সময় জানা উত্তরেও ভুল হয় অন্যেরটা শুনে। তাই নিজের উপর ভরসা রেখে নিজে যা জানো তা লিখবে। পরীক্ষায় অন্যের সাহায্য নেওয়া সময় নষ্ট করে।

রিভিশনের জন্য সময় হাতে রাখা

খাতা জমা দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই রিভিশন দিতে ভুলবে না। রিভাইজ দেওয়া শুধু তোমার ভুল ধরতে ও সংশোধন করতে সাহায্য করে না, বরং অনেক সময় রিভশনের মাধ্যমে অনেক তথ্য মনে পড়ে যায় যা হয়তো পরীক্ষার শুরুর দিকে মনে করতে পারছিলে না। তাই যখন প্রত্যেক সেকশনের জন্য সময় ভাগ করো, তখন রিভিশনের জন্য আলাদা সময় হাতে রাখবে। 

– নাদিয়া নুসরাত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *